বিউটি টিপস

শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার কেনার আগে কোন কোন বিষয়গুলি দেখে নেওয়া উচিত সে সম্পর্কে জেনে নিন!

এখন প্রশ্ন হল এবার থেকে শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার কেনার আগে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে? এক্ষেত্রে যে যে ফ্যাক্টরগুলি মাথায় রাখা জরুরি, সেগুলি হল…

১. আপনার চুলের জন্য সহায়ক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে:
শ্যাম্পু করার পর চুল কী খুব রুক্ষ হয়ে যায় বা মনে হয় চুলটা কেমন তেলতেলা হয়ে গেছে? এমনটা হলে বুঝবেন আপনি ঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন না। এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে, ত্বকের মতো সবার চুলও একই রকমের হয় না। কারও হয় তেলতেলা, তো কারও রুক্ষ। প্রসঙ্গত, যাদের তেলতেলা চুল তারা এমন শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন যাতে তেলের পরিমাণ কম আছে। অন্যদিকে, যাদের রুক্ষ চুল তাদের এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, যাতে তেলের পরিমাণ বেশি রয়েছে। এই নিয়ম মেনে যদি এই প্রসাধনিটি ব্যবহার করা যায়, তাহলে কখনও চুল খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এই প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় জেনে রাখা ভাল যে, স্নান করার পর যাদের চুল জট পাকিয়ে যায়, তাদের শ্যাম্পুর পরিবর্তে বেশি করে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। এমনটা করলে দেখবেন চুল নরম এবং তুলতুলে হয়ে উঠবে, সেই সেঙ্গে সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

২. আপনার শ্যাম্পুতে এই সব ক্ষতিকর ক্যামিকেলগুলি নেই তো?
সহজ কথায় শ্যাম্পু হল এমন একটি ক্যামিকেল সমৃদ্ধ তরল, যা চুলকে পরিষ্কার করতে কাজে লাগে। শুনতে বিষয়টা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তব কিন্তু অনেক বেশি ভযঙ্কর। কারণ চুলের ভাল করবে এই ভেবে আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করে চলেছেন যাতে এমন কিছু ক্যামিকেল রয়েছে যা চুলের ভাল করার থেকে ক্ষতি করছে বেশি। তাই তো যে কোনও শ্যাম্পু কেনার আগে একবার জেনে নেবেন কী কী ক্যামিকেল রয়েছে তাতে। যেমন ধরুন, যেসব শ্যাম্পুতে অ্যামোনিয়াম সালফেট, সোডিয়াম লরেথ সালফেট, সোডিয়াম ক্লোরাইড, পলিইথেলিন গ্লাইতল, ডাইথেনোসেমিন অথবাট্রাইএথোলেনিনের মতো উপাদান রয়েছে সেই সব শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ভুলেও কিনবেন না। কারণ এই সবকটি উপাদানই চুলের পক্ষে ভাল নয়। এখানেই শেষ নয়, যে সব শ্যাম্পুতে লেখা থাকে ‘এই প্রোডাক্টটি যে কোনও চুলের জন্যই ভাল’- এমন শ্যাম্পু কখনই কিনবেন না।

৩. দামি শ্যাম্পু কিনতে কখনও পিছপা হবেন না:
শ্যাম্পু করার সময় খুব ফেনা হয়, এটা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন? এই যে এত ফেনা হয় তার জন্য প্রতিটি শ্যাম্পুতেই এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ভাল নয়। তাবে দামি শ্যাম্পুতে এমন ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা নাম মাত্র থাকে, যেখানে কম দামি শ্যাম্পুতে এই সব উপাদান থাকে খুব বেশি পরিমাণে। তাই তো চুল ভাল রাখতে সব সময়ই ভাল এবং দামি শ্যাম্পু ব্যবহারের পক্ষে সাওয়াল করেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. আপনার শ্যাম্পুতে সালফেট নেই তো?
যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে, অ্যামোনিয়াম লরেথ সালফেট এবং সোডিয়াম লরেথ সালফেট চুলের জন্য একেবারেই ভাল নয়। এই দুটি উপাদান রয়েছে এমন শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল পরা বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে চুল রুক্ষ এবং সৌন্দর্যহীন হয়ে পরার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাবে। প্রসঙ্গত, প্রতিটি শ্যাম্পুর গায়েই লেখা থাকে তাতে কী কী উপাদান রয়েছে। সেই লেখা পড়ে নিয়ে সব সময় শ্যাম্পু কিনবেন।

৫. বেশি মাত্রায় শ্যাম্পু ব্যবহার একেবারেই ভাল নয়:
আমাদের প্রত্য়েকের চুলেই প্রকৃতিক তেল রয়েছে। তাই তো চুল এত উজ্জ্বল দেখায়। বেশ মাত্রায় শ্যাম্পু করলে প্রকৃতিক তেল একেবারে শুকিয়ে যায়। ফলে চুল রুক্ষ এবং বেজান হয়ে পরে। তাই তো সপ্তাহে ৩ বারের বেশি শ্যাম্পু করা একেবারেই উচিত নয়। শুধু তাই নয়, শ্যাম্পু করার ২৪ ঘন্টা আগে মনে করে চুলে তেল মালিশ করবেন। এমনটা করলে শ্যাম্পুর পরেও চুলের স্বাস্থ্যের কোনও অবনতি ঘটবে না।

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

৬. প্রাকৃতিক উপাদানে উপর ভরসা রাখুন:
চুল ভাল রাখতে শ্যাম্পুর ব্যবহার কমাতে হবে। পরিবর্তে প্রকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। এমনটা করলে চুল সুন্দর থাকবে, সেই সঙ্গে স্কাল্পে ময়লা জমার ভয়ও থাকবে না। প্রসঙ্গত, নারকেল তেলের সাহায্যে কিন্তু দারুন শ্যাম্পু বানানো যায়। তবে এমন শ্যাম্পু কীভাবে বানাতে হয়, সে সম্পর্কে একটু জেনে নিতে হবে।

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top