কম্পিউটার জগৎ

LAN, WAN, MAN, CAN, VPN, BAN, NAN, SAN ইত্যাদি এগুলো কী? এবং এদের মধ্যে পার্থক্য?

আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছে ? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আজকের Post শুরু করছি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের পরিচিতি নিয়ে এবং এদের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে। তো শুরু করা যাক…

একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক; ল্যাপটপ, রাউটার, সুইচ, সার্ভার, ইত্যাদির মত বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে একটা ইন্টারকানেকশনকে বোঝায়। আমরা এসব নেটওয়ার্ক জিওগ্রাফিকাল এরিয়ার পার্থক্য অনুযায়ি কয়েক ভাগে ভাগ করি। যেমনঃ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক, পারসোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক, নেয়ার-মি নেটওয়ার্ক, ইত্যাদি।

আপনি যে সংযোগই ব্যবহার করুন না, আপনার বাড়িতে ওয়াইফাই বা অফিসে ইথারনেট, আপনি কিছু কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটা অংশ। কম্পিউটার নেটওয়ার্কে; রাউটার, হাব, সুইচ, এন্ড-ইউজার ডিভাইস, রিপিটার, নেটওয়ার্ক কার্ড, ইত্যাদির মত অনেক ডিভাইসই অন্তর্ভুক্ত করা থাকে। প্রয়োজন হিসাবে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে এসব ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

আমরা আকার এবং ভৌগোলিক এলাকা জুড়ার উপর নির্ভর করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সবচেয়ে সাধারণ ধরণগুলো হল (শ্রেণী) LAN, MAN, WAN, PAN, ইত্যাদি।

Local Area Network (LAN) কী?

LAN

LAN এমন একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যেটা আমাদের এবং সাধারণ লোকের কাছে খুবই পরিচিত। এটা সীমিত পরিসরের, মানে একটা ঘর বা বিল্ডিং-এর কিছু অংশে সীমিত ভাবে ব্যবহারযোগ্য। আর এই কারণেই আমরা সাধারণত আমাদের লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক মানে LAN-কে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ইথারনেট প্রযুক্তি (IEEE 802.3) ব্যবহার করি। ইথারনেট ক্যাবল যেটা আমরা আমাদের বাড়ি এবং অফিস জুড়ে রাখি, তাদের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা আছে, নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের তদতিরিক্ত ব্যবহার করলে, স্পীড অনেক কমে যায়। repeater, bridge, ইত্যাদি ব্যবহার করে একটি LAN-এর পরিসর বাড়ানো যায়।

Home Area Network (HAN) কী?

HAN

HAN (Home Area Network) এক প্রকার লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক। সব ধরনের ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, কম্পিউটার, IOT ডিভাইস, টেলিভিশন, গেমিং কনসোল, ইত্যাদি যদি একটা কেন্দ্রিয় রাউটারের (wired অথবা wireless) সাথে যুক্ত থাকে তাহলে সেই নেটওয়ার্ককে হোম এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে।

Wireless LAN (WLAN) কী?

WLAN

এ ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কেরই একটা অংশ কিন্তু সেটা ওয়্যারলেস। এটা ওয়াইফাই প্রযুক্তি IEEE 802.11 ব্যবহার করে। আপনি যদি মনে করেন যে Wi-Fi এবং WLAN একই জিনিস, তাহলে আপনি আপনার কনফিউশনকে পুরোপুরি দুর কর ফেলুন। তারা সম্পূর্ণ ভাবে ভিন্ন। ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের পরিসর একটি স্পষ্ট রেখা মধ্যে কয়েকশ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু wired LAN, এর পরিসীমা repeater এবং bridge ব্যবহার করে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

Personal Area Network (PAN) কী?

PAN

নামেই বোঝা যায় যে, পারসোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক দশ মিটার(s) সীমার মধ্যে একটা নেটওয়ার্ক যেটা শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে। প্রধানত, পাসোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি wireless হয়। Wireless PAN (WPAN)-র একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে ব্লুটুথ প্রযুক্তি, যেটা বেশিরভাগ স্মার্টফোনের, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, wearable, ইত্যাদির মতো পোর্টেবল ডিভাইসে পাওয়া যায়। অন্যান্য PAN প্রযুক্তি হচ্ছে ZigBee, তারবিহীন USB, ইত্যাদি।

Campus Area Network (CAN) কি?

CAN

একটি নেটওয়ার্ক যা স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বা একটি কর্পোরেট প্রাঙ্গনে আচ্ছাদন করা থাকে তাকে ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। এটা বিভিন্ন LAN, একটি কেন্দ্রীয় ফায়ারওয়াল, এবং একটি লিজড লাইন বা অন্য কোন উপায়ে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা থাকে, তাদের সমন্বয়ে তৈরি হয়।

Metropolitan Area Network (MAN) কি?

MAN

Metropolitan Area Network (MAN) এর পরিসর বা যেটুকু জায়গা কভার করতে পারে সেটা LAN এবং CAN তুলনা বেশ বড়। বস্তুত, একটা MAN একটি শহর বা মেট্রো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন LAN-এর লিঙ্ক ব্যবহার করে তৈরি করা যেতে পারে। ঔ মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ককে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য তারযুক্ত backhaul ব্যবহার করা হয়। আপনি বিশ্বের এমনকি বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন শহরে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন। যেমন বাংলাদেশের সিলেট শহর জুরে ওয়াইফাই।

Wide Area Network (WAN) কী?

WAN

আমরা সব ছোট ছোট নেটওয়ার্ক যেটা আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস, শহর, রাজ্য, এবং দেশের মধ্যে থাকে তাদের সুপারসেটকে WAN বলা যেতে পারে। রাউটার বা মডেম যেটা আপনার বাড়ীতে স্থাপন করা আছে সেটাকে WAN এর সাথে কানেক্ট থাকতে হয়। ইন্টারনেটও এক ধরণের WAN যেটা সমগ্র পৃথিবী জুড়ে আছে।

ইন্টারনেটের সাথে সংযোগ করতে ADSL, 4G, LTE, Fiber optic, cable-এর মত ইত্যাদি বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। যাইহোক, এই প্রযুক্তির বেশিরভাগই সর্বচ্চ এক দেশে আবদ্ধ থাকে। কিন্তু ক্যাবল এবং ফাইবার অপটিকগুলি বিশ্বব্যাপী সংযোগ স্থাপন করতে দেশ ও মহাদেশ জুড়ে পাড়ি দেয়।

Storage Area Network (SAN) কী?

SAN

সাধারণত, এটা ব্যবহার করা হয় এক্সটার্নাল স্টোরেজ ডিভাইসকে সার্ভারের সাথে সংযোগ করতে কিন্তু মনে হয় যেন স্টোরেজ সরাসরি সংযুক্ত করা আছে। এই প্রযুক্তিটি ফাইবার চ্যানেল হিসাবে বেশি পরিচিত।

অন্যান্য কিছু নেটওয়ার্ক এদের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।

Body Area Network (BAN) কী?

BAN

আপনি আপনার স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ব্যান্ড, বায়োমেট্রিক RFID ইমপ্ল্যিন্ট, এবং মেডিকেল ডিভাইস যেটা পেসমেকার মত শরীরের ভিতরে স্থাপন করা আছে সেগুলা দিয়ে Body Area Network (BAN) তৈরি করতে পারেন। ওয়্যারলেস BAN প্রাথমিক ফর্ম, যেটা এই নেটওয়ার্কে সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত। এটি IEEE 802.15.6 মান ব্যবহার করে যেট মানব দেহের সান্নিধ্যের মধ্যে একটি স্বল্প পাল্লার, অত্যন্ত কম শক্তি ওয়ারলেস সংযোগ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

Wireless BAN, PAN প্রযুক্তির সঙ্গে একসথে কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ব্লুটুথ সংযুক্ত স্মার্টফোন শরীরের উপস্থিত বিভিন্ন সেন্সর থেকে ডেটা সিঙ্ক (sync) করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

Near-me Network (NAN) কি?

NAN

যদিও এটা সম্পূর্ণই অপরিচিত শোনাচ্ছে, কিন্তু আপনি প্রায় প্রতিদিনই এই Near-me নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। মনে করুন আপনি ফেসবুকে আপনার বন্ধুদের সাথে সবাই একই রুমে বসে একে অপরের সাথে চ্যাট করছেন। তখন আপনি এই NAN-এর অংশ, যদিও আপনি বিভিন্ন ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কের হতে থাকেন।

আপনার ডিভাইস থেকে একটি ম্যাসেজ ফেসবুকের সব সার্ভার ঘুরে এসে ঠিক আপনার পাশেই বসে থাকা আপনার বন্ধুর ডিভাইসে আসবে। একটি লজিক্যাল উপায়ে, উভয় ডিভাইসই একই নেটওয়ার্কের অন্তর্গত। মূলত, উভয় ডিভাইসের জন্য মানদণ্ড নৈকট্য থাকাতে হয়। তাদেরকে একই নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকার প্রয়োজন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, তারা ওয়াইফাই, সেলুলার ইত্যাদি মাধ্যমে সংযুক্ত থাকতে পারে।

Virtual Private Network (VPN) কী?

VPN

ভিপিএন এমন এক ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যার কোনো শারীরিক অস্তিত্ব নেই। ভিপিএন-এর সাথে যুক্ত এমন ডিভাইস পৃথিবী যেকোনো অংশেই থাকতে পারে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে। আপনি VPN সম্পর্কে আরো অনেক জানতে পারবেন আমাদের এই টেকটিউনস থেকে। কারন এই. VPN-এর ওপর অনেক ভালো টিউন আছে।

VPN গুলি তাদের অফিসের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত বা সংযুক্ত থাকার জন্য এবং তাদের দূরবর্তী কর্মীদের কোম্পানির সম্পদ অ্যাক্সেস দিতে কর্পোরেটদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এটা Enterprise Private Network-ও বলা যায়।

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

শেষ কথা

আমি আশা করি যে, এই Postটা পড়ার পর বিভিন্ন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আপনাদের একটু সংক্ষিপ্ত ধারণ হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি ব্যাপারগুলো খোলসা করে বলার জন্য। জানিনা কতটুকু পেরেছি। যাই হোক, কেমন লাগল Post টা? Comment করে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। সবাই তাহলে ভালো থাকুন। খোদা হাফেজ।

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top