লেখাপড়া

বিদেশে স্কলারশিপের আদ্যোপান্ত

গত নয় মাস ধরে অন্তত শতাধিক বার্তায় অনুরোধ ‘ভাই স্কলারশিপ’ কিভাবে পাওয়া যায়। কিভাবে মটিভেশন করতে হয়, কি কি যোগ্যতা লাগে….। প্রতিদিন এই ধরনের মেসেজ আমাকে গিলতে হচ্ছে। সময় সুযোগের প্রেক্ষিতে কাউকে উত্তর দিতে পারি আবার কাউকে দিতে পারি না। আজ ছুটির দিন আজ ছুটির দিনে এই সব প্রশ্নগুলোর হাত থেকে মুক্তির জন্য এই লেখাটি লিখছি। যদিও আমি এই বিষয়ে কেবলমাত্র এবিসি জ্ঞান সম্পন্ন তবুও যারা দেশের বাইরে শিক্ষা গ্রহণ করতে চান, এই লেখাটি কেবল তাদের জন্য।

আশা করি আজকের পর থেকে যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী তাদের তথ্যের পিপাসাটুকু মিটবে। প্রথমে আসা যাক আমার আপত্তিকর একটি শব্দ ‘উচ্চ শিক্ষা’ নিয়ে। আমি এই শব্দটির প্রতি আমার অনাস্থা প্রকাশ করছি, একই সাথে এই শব্দটি আমি এই লেখায় লিখতে রাজি নয়। কারণ, উচ্চশিক্ষা’ বলে কোন শব্দ আমি আমার অভিধানে সংযুক্ত করতে চাই না। শিক্ষা’ কেবলই শিক্ষা। এখানে উচ্চ কিংবা নিম্ন শিক্ষা বলা বেমানান। আপনি যখন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বিদেশে গিয়ে কিংবা দেশে থেকেই পিএইচডি/এমএস করা এটাও গুরুত্বপূর্ণ। বরং প্রাথমিক শিক্ষার চেয়ে এই বৃদ্ধ পর্যায়ের শিক্ষায় গুরুত্ব বিবেচনায় নিম্নবর্গীয়। আপনি বাইরে যে শিক্ষা পাচ্ছেন: যাই হোক এবার আসল কথায় আসা যাক। বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে আসে তাদের আশি শতাংশই পিএইচডি প্রোগামে কিংবা এমএস প্রোগামে।

তবে এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদেরই কেবল জয়জয়কার। বর্তমানে কিছু কিছু আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগামেও শিক্ষার্থীরা আসছে।লক্ষ্য : এই শব্দটির গুরুত্ব আমার কাছে সবচেয়ে বেশি কারণ লক্ষ্য ছাড়া কোন গন্তব্যই মজবুত হয় না কিংবা হতে পারে না। তাই যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী কেবল লক্ষ্যভেদীরাই তাদের ন্যায্য অধিকারটুকু আদায় করতে পারে। আমাদের গোড়া পত্তনের শিক্ষায় যে প্রলেপ থাকে তা কেবল বৃষ্টিস্নাত অবস্থায় এসিডরেইনের হলদে ভাবটায় কেবল বিরাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মনে শঙ্কা বিরাজ করে। তৃতীয় বর্ষ পাশ করার পর এই চিন্তাটি মস্তিষ্কের সর্বত্র সিগন্যাল দেয় যে এইদেশে চাকরি নাই, এতো পড়াশোনার দরকার কি ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ উচ্চবর্গীয় রেজাল্ট করে নিজের সম্ভবনাটুকুকে সামনে প্রজ্জ্বলিত করে ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তিমিত হয়ে যায়।

আসলে এটা আমার কিংবা আপনার দোষ নয়। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি আর আমাদের কুজ্ঝটিকাময় ভবিষৎ চালকরাই আমাদের মসৃণ পথকে বন্ধুর করে তুলেছে। তাই এই সংকীর্ণময় পর্যায় থেকেও মরুভূমির সেই বৃক্ষগুলোর মতো জলসিঞ্চণ করে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে প্রিয় মাতৃভূমিকে। তাই লক্ষ্যটি ঠিক করা একজন শিক্ষার্থীর আবশ্যিক কর্ম বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। তেমনি বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে যাওয়ার বাসনাটিও তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়া প্রয়োজন। ফলাফল : মাত্র বছর ছয়েক আগেও একটা প্রচলিত ধারণা ছিল যে, যারা আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে ভাল ফলাফল করে, বিদেশী শিক্ষা কেবল তাদের জন্য।

কিংবা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিএইচডি গ্রহণ কেবল তাদেরই মানায়। এই বদ্ধমূল ধারাগুলোর পরিবর্তন এসেছে। আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ের ফলাফল বিদেশী শিক্ষা গ্রহণের আর মানদন্ড নয়। নিজের ভিতর ডুবে থাকা সম্ভাবনাময় সেই শক্তিটি কেবল এই পথটি উন্মুক্ত করছে। কাজেই সিজিপিএ কে কতদূর এগিয়ে তা এখন মূখ্য বিষয় নয়। যার প্রমাণ আমি নিজে। তাই যারা বাইরে শিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী সিজিপিএ চিন্তাটি একদম মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। একটা শ্বাস নিয়ে গর্জে উঠে বলুন আমি পারবো, কিংবা আমি পারি। তবে ইউরোপের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ নির্ধারণ করে দেয়। তাই বলে কম সিজিপিএ ( ৩.০০ কিংবা তার চেয়েও কম) বিদেশী শিক্ষার অন্তরায় হবে তা ভাবার অবকাশ নেই।

সুতারাং সিজিপিএ কত পেলাম সেটা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। গবেষণা : পিএইচডি যারা করতে চান, তাদের জন্য গবেষণাপত্রটি থাকা জরুরি। আর মাস্টার্স পর্যায়ের কোন থিসিসের প্রয়োজন নেই। সুতারাং বাংলাদেশে মাস্টার্স করে যারা বাইরে পিএইচডি করতে আগ্রহী তাদের জন্য এই থিসিস জিনিসটি থাকা আবশ্যিকই বটে। তবে যাদের থিসিস নেই তারা দেশে মাস্টার্স করার পরও বাইরে মাস্টার্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে আপনার থিসিসের কোন মূল্য নেই।

 

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

আমাদের দেশের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা বিশেষ করে বিজ্ঞানের বিভাগগুলোতে কেবল মাত্র আন্ডারগ্রাজুয়েটে ফলাফল ভালকারীদের এই থিসিস করার সুযোগ দেন। আমি সম্মানীয় শিক্ষকদের অনুরোধ করবো, আপনাদের এই বদ্ধমূল ধারনা থেকে বের হয়ে আসুন। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আপনারা অধিকাংশ দেশের বাইরে পড়াশোনা করে গিয়েছেন। আপনাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে। বাইরে বিশেষ করে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ের তৃতীয় বর্ষ থেকে গবেষণায় যুক্ত হয়। আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে যদি গবেষণা করতে সুযোগই না পায় তাহলে সেই জ্ঞান অর্জন অতৃপ্ত থেকে যায়।

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top