টিপস্ এন্ড ট্রিকস্

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ৫টি স্বাস্থ্য ঝুঁকি! প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

মোবাইল ফোন প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠতম উপহার। তবে, এই শ্রেষ্ঠতম উপহার কীভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, তা জেনে নেয়া আপনার কর্তব্য।


মোবাইল ফোন বা সেল ফোন একুশ শতকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন সাধন করেছে।  

BTRC – এর সূত্রমতে, ২০১৫ সালে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে- ১২১.৮৬০ মিলিয়ন। অর্থাৎ ১২,১৮,৬০,০০০ জন ব্যবহার  করছে।

আপনার যে ধরণের মোবাইল সেট ই থাকুক না কেন, যেমনঃ এন্ড্রয়েড, আইফোন, ব্লেকব্যারি অথাবা একটি নরমাল ফোন- সম্ভাবনা থাকে যে ফোনে মেসেজ, এলার্ট অথাবা কল এমনকি ভাইব্রেশন বা রিং না হলেও আপনি আপনার মোবাইল চেক করবেন। আমাদের হাতে মোবাইল থাকলে, আমরা ঘড়ি দেখার জন্য ও মোবাইল স্ক্রিনে তাকাই। 

মোবাইল ফোনে আধুনিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে প্রতিদিনই সেল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। 

যদিও সেল ফোন আপনার বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীদের সাথে সহজে যোগাযোগ করার সুবিধা দেয়, তথাপি এর অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

মোবাইল ফোন রেডিও সিগনাল বা তরঙ্গ ব্যবহার করে, যে তরঙ্গগুলো বাতাসের মধ্যে দিয়ে একটা সারির মতো করে যায়।  এটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি  ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে যা কেমিক্যাল বন্ড ভাংতে পারে না, এবং ম্যাগনেটিক দ্বারা মানুষের শরীরে প্রভাব ফেলে।  

যদি ও সেল ফোনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়ার কম থাকে তথাপি আপনি যদি এটির কাছাকাছি থাকেন তাহলে আপনার ক্ষতি হবে।  

আপনার হ্যান্ড সেট টি রেডিয়েশন বিস্তৃত করে থাকে। আপনি যদি কমপক্ষে  ২০ সে.মি. দূরে আপনার হ্যান্ড সেট টি রাখতে পারেন তাহলে আপনি রেডিয়েশন এর বিস্তার এর হাত থেকে বাঁচতে পারেন। 

রেডিয়েশন বিস্তার মানুষের মাথার উপর প্রভাব ফেলে ফলে, বয়স্করা বিশেষকর বাচ্চারা দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভুগতে পারে।  এ রেডিয়েশন টা দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলার কারনে আমরা এর ক্ষতিকর দিকটা  দেখতে পারি না। 

যাইহোক, সেলফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার স্বাস্থ্যের উপর কি কি প্রভাভ ফেলতে পারে এবং কীভাবে করে থাকে, তা  নিম্মে তুলে ধরা হল…

১। অনুভুতির নেতিবাচক প্রভাবঃ 

দৃশ্যমান মোবাইল ফোন ডিভাইসের মাধ্যমে যখন এক বা একাধিক ব্যক্তি ফেস টু ফেস কথা বলে তখন তাদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত উইনিভারসিটি অফ এসেক্স কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফলে তুলে ধরা হয়। 

গবেষকরা নোজ টু নোজ কনভারসন এর সময় মোবাইল ফোনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। 

গবেষণায়, ৩৭ জোড়া যুগল আনা হয়, যারা ছিল একে অপরের অপরিচিত। তাদেরকে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করতে বলা হয়। এবং এ ১০ মিনিট তারা একে অপরে ইন্টারেস্টিং বিষয় এবং বিগত এক মাসে তাদের জীবনে কি ঘটেছিল সেগুলো শেয়ার করতে বলা হয়। 

গবেষণায় অংশগ্রহণ কারী অর্ধেক যুগলের হাতে মোবাইল ফোন ডিভাইস দেয়া হয় আর অর্ধেকের যুগল মোবাইল ছাড়া কথা বলে। 

গবেষণায় ফলাফল দেখা যায় যে যাদের কাছে মোবাইল ডিভাইস ছিল তারা অপিরিচিত ব্যক্তিটির সাথে কম ইতিবাচক অনুভুতি প্রকাশ করে। যাদের মোবাইল ডিভাইস ছিল না তাদের চেয়ে। অর্থাৎ মোবাইল ফোন অন্যের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। 

আমরা অনেকেই অবস্থান জিজ্ঞাসা করলে মিথ্যা  কথা বলি, যা আপনার বন্ধুর আপনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি ঘটে থাকে দীর্ঘমেয়াদে। তাই, আপাত দৃষ্টিতে আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারি। কেনোনা, এর তাৎক্ষণিক সুবিধাটাই আমরা দেখতে পাই।

২। চাপের মাত্রা বৃদ্ধি

উচ্চ কম্পঙ্ক মোবাইল ফোনের ব্যবহার আমাদের চাপের মাত্রার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অবিরত কল রিং , ভাইব্রেসন, এলাম, রিমাইন্ডার ইত্যাদি আমাদের মানসিক চাপের উপর প্রভাব ফেলে। 


সুইডেনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব গোথেনবার্গ একটি গবেষণা পরিচালিত করে। গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেন, মোবাইল ফোনের সরাসরি অতিরিক্ত ব্যবহারের কারনে মানুষের মনোসামাজিক দিক গুলোতে মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়। 

গবেষণায় ২০-২৮ বছরের লোকেদের অন্তভুক্ত করা হয় এবং তাদের এক বছর তত্বাধানে রাখা হয়। এবং তাদের কতগলো প্রশ্নাবলী জবাব দেওয়া বাধ্যতামুলক রাখা হয়। 

গবেষকরা ঐ প্রশ্নগুলো থেকে যা পেয়েছেন তা হল, মোবাইল ফনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মহিলাদের ঘুমের ব্যঘাত এবং চাপ এর সাথে সম্পর্কিত। 

সর্বোপরি, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিরাট ঝুঁকি।

৩। আপনার স্বুস্থ দেহে অসুস্থতার ঝুঁকি বৃদ্ধি

আমরা অনেক সময় সারা দিন হাতে মোবাইল রাখি, ব্যবহার করি এবং স্ক্রিনে টাচ করি। এতে করে, জার্ম বা জীবাণু আপনার মোবাইলে আশ্রয় নেয়। 

দিন শেষে দেখা যায়, চর্বি, তেল ইত্যাদির অবশিষ্টাংশ মোবাইলে থাকে এবং এ গুলো মোবাইলে যে জীবাণু তৈরি করে সেগুলো পায়খানার সিটের মধ্যে থাকে। 

স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন এবং কুইন মেরি আর ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন একটি গবেষণা পরিচালিত করেন। গবেষণায় ৩৯০ টি সেল ফোন এবং হাতে ব্যকটেরিয়ার মাত্রা পরিমাপ করা হয়। 

ফলাফলে দেখা যায়, ৯২% সেলফোনে ব্যকটেরিয়া ছিল- ৮২% হাতে ব্যকটেরিয়া ছিল- এবং ১৬ % সেলফনে এবং হাতে ই কুয়েল নামক ব্যকটেরিয়া ছিল। জীবাণু অতি সহজে সেলফনের মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে স্থানান্তরিত হতে পারে।

৪। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়

সেলফোন অবিরিত ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে বিশেষ করে, যখন মেসেজ এবং মেইল বা ফেইসবুকে চ্যাট করতে হয়। মেসেঞ্জার বা মেসেজে দ্রুত রেসপনস করতে গেলে সেটা আপনার জয়েন্টের পেইন বা প্রদাহ বৃদ্ধি করে। 

সেলফোন ব্যবহার করলে পিঠে ব্যথা বৃদ্ধি পায় যদি আমরা মোবাইল ব্যবহার করার সমায় এটি কাধের নিচে রেখে ব্যবহার করি।

দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারনে আমাদের বডিতে প্রভাব পড়ে। এটা থেকেও পিঠে ব্যথা হতে পারে।

৫। চোখে দেখার সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের বেশি উজ্জল আলো আমাদের চোখের সমস্যা সৃষ্টি করে।

মোবাইলের স্ক্রিনটা সাধারণত কম্পিউটার এর স্ক্রিনের চেয়ে ছোট। এটির অর্থ হল, আপনাকে ট্যাক্সট বা মেসেজ পড়তে হলে আপনার চোখ আড় চোখ বা চোখ টান টান হয়ে যায়। ফলে আপনার চোখে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, আর সেটি হল অন্ধত্ব।

উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মোবাইল ফোন এর ব্যবহার আমাদেরকে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। তবে, মোবাইল ফোন বর্তমান প্রযুক্তির বিশেষ আবিস্কার। এটি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে। ফলে আরও কাছে থাকা, ব্যবসায় বাণিজ্যে বিশেষ সহযোগিতা পাওয়াসহ নানাবিধ সুবিধা রয়েছে।

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

মূলত, প্রত্যেক জিনিসেরই উপকার এবং অপকার সহবস্থায় অবস্থান করে থাকে। উপকারটা গ্রহণ করবো নাকি অপকারটা নিবো, তা সম্পূর্ণই আমাদের নিজেদের উপর নির্ভর করে। মোবাইল ফোন এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারই মূলত উপরের ক্ষতিগুলো ত্বরান্বিত করে থাকে। তাই, এর কাম্য ব্যবহারের মাধ্যমে এর সুবিধা ভোগ করা এবং অন্যদিকে, এর ক্ষতিকর দিকগুলো পরিহার করা যেতে পারে।

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top