স্বাস্থ্য কথা

গরমকালে ত্বককে ভাল রাখতে চন্দন দিয়ে বানানো ফেস মাস্কের ব্যবহার জরুরি

বছরের এই একটা সময়ে নানা কারণে ত্বকের উপর বিরূপ প্রভাব পরে। তাই তো এই প্রবন্ধে চন্দন দিয়ে বানানো এমন কিছু ফেস মাস্কের বিষয়ে আলোচনা করা হল, যা ত্বককে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এক্ষেত্রে চন্দনকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কেন? কারণ এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ব্রণর প্রকোপ কমাতে এবং ত্বককে সুন্দর করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। শুধু তাই নয়, যে কোনও ধরনের ত্বকের রোগ সারাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি দারুন কাজে আসে। সর্বপোরি যে কোনও ধরনের ত্বকেই যেহেতু এটি ব্যবহার করা যায়, তাই তো গরমের সঙ্গী হিসেবে চন্দনকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

এখন প্রশ্ন হল কী ভাবে চন্দনকে কাজে লাগালে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে? এক্ষেত্রে চন্দন দিয়ে বানানো ফেস মাস্ক ভাল কাজে আসতে পারে। তাই তো এই প্রবন্ধে চন্দন সহযোগে বানানো এমন কিছু ফেস মাস্ক সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা আপনার ত্বকের পরিচর্যায় দারুনভাবে কাজে আসতে পারে।

১. চন্দন এবং গোলাপ জল:
৫ চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি মুখে লাগান। প্রয়োজনে মুখের সঙ্গে সঙ্গে গলাতেও এই পেস্টটি লাগাতে পারেন। প্রসঙ্গত, মিশ্রনটি মুখে লাগানোর পর কিছু সময় রেখে দিয়ে মুখটা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস মাস্কটি স্কিনকে আদ্র রাখার পাশপাশি ত্বককে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. চন্দন এবং হলুদ:
২ চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে ৫ চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে বানাতে হবে এই ফেস মাস্কটি। এটি ব্রণর প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে। কীভাবে এই ফেস মাস্কটি মুখে লাগাতে হবে? চন্দন এবং হলুদের গুঁড়োকে ভাল করে মিশিয়ে সেটি মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখটা ধিয়ে ফেলতে হবে।

৩. চন্দন এবং ভাতের জল:
এই ফেস মাস্কটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করার পাশপাশি ডার্ক সার্কেল কমিয়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে বলিরেখা কমিয়ে ফেলে ত্বকের বয়স কমাতেও সাহায্য করে। এক্ষেত্রে পরিমাণে মতো চন্দন পাউডারের সঙ্গে এক কাপ জল মিশিয়ে তৈরি করতে হবে এই ফেস মাস্কটি। আর ব্যবহারের নিয়ম সেই একই। মুখে এবং গলায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. চন্দন এবং কমলা লেবু:
পথমে কয়েকটি কমলা লেবু চটকে নিন। তারপর তা থেকে ২ চামচ নিয়ে, ৫ চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। অল্প করে দুধ এবং ১ চামচ মধুও মেশান। তারপর ভাল করে সবকটি উপকরণ মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার সেটি ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস মাস্কটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজে আসবে।

৫. চন্দন এবং দুধ:
এই ফেস মাস্কটি ত্বকের প্রদাহ কমানোর পাশপাশি লাল ভাবে কমাতে সাহায্য করে। আর সবথেকে ভাল জিনিস হল যে কোনও ত্বকেই এটি লাগানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে ২ চামচ চন্দেনর গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণ মতো দুধ মিশিয়ে বানাতে হবে ফেলুন এই ফেস মাস্কটি।

৬. চন্দন এবং মুলতানি মাটি:
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে চন্দন এবং মুলতানি মাটি, উভয়ই দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে ২ চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে ২ চামচ মুলতানি মাটি এবং পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে বানাতে হবে এই ফেস মাস্কটি। যখন দেখবেন সবকটি উপাদান ভাল করে মিশে গেছে, তখন মিশ্রনটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে নেবেন। কিছু সময় রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

৭. চন্দন এবং মধু:
এই ফেস মাস্কটি ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরানোর পাশপাশি স্কিনকে আদ্র এবং তরতাজা রাখতে সাহায্য করে। পরিমাণ মতো চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে অল্প করে মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ফেলুন। কিছু সময় রেখে মুখটা ধুয়ে নিন। প্রসঙ্গত, দিনে দুবার এই ফেস মাস্কটি মুখে লাগালে দারুন উপকার পাওয়া যায়।

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

৮. চন্দন এবং আপেল:
৩ চামন চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে ১ কাপ আপেলর পেস্ট, ১ চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ চামত মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিন।

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top