লাইফস্টাইল

ফেসিয়াল করার পরে ভুলেও এই কাজগুলি করবেন না

ত্বককে তার প্রয়োজনীয় আরাম প্রদানের ক্ষেত্রে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কিন্তু অনেকেই ফেসিয়ালের পর এমন কিছু কাজ করে থাকেন যার জন্য ত্বকের ভাল হওয়ার পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও কমতে শুরু করে চোখে পরার মতো। সেই কারণেই তো ফেসিয়ালে পর কতগুলি জিনিস একেবারেই করা উচিত নয়, যেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল এই প্রবন্ধে।

ফেসিয়াল নানাভাবে ত্বকের উপকারে লাগে। এতে ত্বক নরম হয়। সেই সঙ্গে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্তও হয়ে ওঠে। তাই তো সৌন্দর্য বৃদ্ধির ইচ্ছা পূরণের জন্য সব সময়ই ফেসিয়ালের পক্ষে সাওয়াল করেন বিশষজ্ঞরা। তবে ত্বকের এমন ধরনের পরিচর্যা করার পর যদি ঠিক মতো নিয়ম মেনে না চলা হয়, তাহলেই ঘটে যায় নানা বিরূপ ঘটনা। তাই সাবধান!

আসলে ফেসিয়ালের পরে ত্বক খুব নরম হয়ে যায়। সেই কারণেই তো এই সময় আরও বেশি করে ত্বকের খেয়াল রাখাতে হয়। আর এই কাজটি যদি কেউ ঠিক মতো না করেন, তাহলে উলটো ঘটনা ঘটে। ত্বক সুন্দর হওয়ার পরিবর্তে আরও খারাপ হয়ে যায়। কী কী কাজ এক্ষেত্রে করতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

১. পুনরায় ত্বক পরিষ্কার করবেন না:
ফেসিয়াল করলে এমনিতেই ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা ময়লা এবং ক্ষতিকর উপাদান সব ধুয়ে য়ায়। তাই তো এই ধরনের ত্বকের পরিচর্যার পর আরও একবার স্ক্রাবিং বা ঐ জাতীয় কোনও পদ্ধতির সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করার প্রয়োজন পরে না। আর যদি কেউ এমনটা করেন? তাহলে স্কিন সেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিষণ রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, ফেসিয়ালের করার কয়েক দিন পর থেকে পুনরায় মুখ পরিষ্কার করা শুরু করতে পারেন। তাতে যদিও ভাল ফল পাওয়া যায়।

২. ওয়েক্সিং:
ফেসিয়াল করার পর পরই ওয়েক্সিং নৈব নৈব চ! অসলে এই সময় ত্বকের উপরের স্থরটি খুব নরম হয়ে যায়। তাই ওয়েক্সিং করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে নানা ধরনের ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

৩. থ্রেডিং করবেন না:
ওয়েক্সিং মতই ফেসিয়ালের পর ভুরু প্লাক বা থ্রেডিং করবেন না। কারণ ওই একই। এই সময় ত্বকের উপরিভাগ নরম থাকার কারণে এমন কাজ করলে ত্বকের প্রদাহ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক কথায় ত্বক যখন খুব স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকে, তখন প্রদাহ বা জ্বালা সৃষ্টি হয়, এমন কাজ করা একেবারেই উচিত নয়। তাতে ভাল হওয়ার থেকে খারাপ হয় বেশি।

৪. রোদে বেরবেন না:
যেমনটা আগেও বলেছি। ফেসিয়ালের পর ত্বক যেহেতু খুব সস্পর্শকাতর হয়ে যায়, তাই এই সময় বেশি রোদে ঘোরাঘুরি না করাই ভাল। কারণ এমনটা করলে ত্বকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে স্কিনের উপরিঅংশ মারাত্বকভাবে পুড়ে যায়।

৫. বোটক্স:
ফেসিয়ালের পর পরই বটক্স করলে ত্বকের সংক্রমণ এবং ব্রণর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকের বয়স বাড়তে শুরু করে। সেই কারণেই ফেসিয়ালের পর কম করে ৭২ ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর বটক্স বা ঐ জাতীয় স্কিন কেয়ারের দারস্থ হওয়া উচিত। তার আগে একেবারেই নয়।

৬. নতুন কোনও বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার করবেন না:
ফেসিয়াল পর ত্বক খুব সেনসিটিভ হয়ে যায়। তাই তো এই সময় নতুন কোনও ক্রিম বা বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার না করারই পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, ফেসিয়াল করার অন্তত ৩ দিন পর থেকে বিউটি প্রডাক্ট ব্য়বহার করবেন, তার আগে নৈব নৈব চ!

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

৭. ফেস মাস্ক:
এই সময় কোন ধরনের ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। অনেকে মনে করেন ফেসিয়ালের পর প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেসিয়াল পেস্ট ব্যবহার করা যেতেই পারে, তাতে কোনও ক্ষতি হয় না। এই ধরণা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ফেসিয়ালের পর ত্বক যেহেতু খুব স্পর্শকাতর হয়ে যায়। তাই এই সময় যে কোনও কিছু থেকে বড় কোনও ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই ফেসিয়ালের কম করে ৩৬ ঘন্টা পর থেকে ফেস মাস্ক বা কেমিকেল পিলং ব্যবহার করবেন, তার আগে নয়।

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top