রান্না প্রতিদিন

রমজান স্পেশ্যাল এই ২০ রেসিপি শেয়ার করে রাখুন এখনি

ইসলাম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নবম মাস হল রমজান মাস। ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে পবিত্রতম মাস এটি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইসলাম ধর্মের মানুষরা উপবাস করে থাকেন। সারাদিনের উপবাসের পর ঐতিহ্যমতে খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন তারা।

এরপর পরিবার একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করেন যা পরিচিত ইফতার নামে। ইফতারে খাওয়া দাওয়া বিশেষ হয়। ইফতারের জন্য বাড়িতেই বানান মহাভোজ।

আসুন দেখে নেওয়া যাক কী কী থাকবে সেই মহাভোজের তালিকায়-

বাটার কিমা মশলা

কিমার এমনিই নিজস্ব স্বাদ হয়। তারপরে তাতে যদি মেশে মাখন আর দই, তবে যে কিমার স্বাদে চার চাঁদ লেগে যায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দইয়ে ক্যালয়িসাম থাকে, মাংসতে থাকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন। তাই বাটার কিমা মশলানিজের মধ্যেই স্বয়ংসম্পূর্ণ আহার।

মটন হালিম

হালিম মূলত পাঁঠা বা গরুর মাংস দিয়েই তৈরি হয়। অন্য কোনও মাংস দিয়ে হালিমে সেভাবে স্বাদ আসে না। হালিম মূলত ২টি পদ্ধতিতে হয়। যেতে গম, বার্লি এবং মশলা মিশিয়ে মাংসের সঙ্গে বানানো হয়। আর একটি পদ্ধতি হল যেখানে ৩-৪ রকমের ডাল দিয়ে বানানো হয়। হাল্কা আঁচে ঢাকা দিয়ে সারা রাত একে রান্না করা হয় যাতে স্বাদ ভাল আসে।

শাহী মটন কোর্মা

শাহি মটন কোর্মা রেসিপিটি স্বাদে বা রং অন্যান্য কোর্মা রেসিপির থেকে একটু আলাদা। এই মটন কোর্মার রং সাদাটে হলদে রংয়ের হয়। কারণ এই রান্নায় দই ও ক্রিম দুটোই ভাল পরিমাণেই যায়। আর হলুদ রং আসে কেসর থেকে। তবে এই রান্নার ক্ষেত্রে খুব বেশি জটিলতা নেই।

চিকেন ইয়াখনি পোলাও

ইয়াখনি পোলাও হচ্ছে একধরণের পাকিস্তানি আমিষ রেসিপি। কাশ্মীরে এই রেসিপিটির খুব চল আছে। মুরগীর মাংস বা পাঁঠার মাংস এবং বাসমতী চাল দিয়েই এই বিরিয়ানি তৈরি করতে হয়। একে ইয়াখনি পোলাও বলা হয় কারণ, ইয়াখনিতেই এই পোলাও তৈরি হয়। ইয়াখনি হল চিকেন বা মটনের স্টক বা স্ট্রু।

গোস্ত সালান

গোস্ত সালান সাধারণত উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসেছে। যা এখন পাকিস্তানের অন্তর্গত। গোস্ত সালান মুঘলাই হেঁশেলের সৃষ্টি বলেই মনে করা হয়। শোনা যায় এই গোস্ত সালান নাকি মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের খুব পছন্দের খাবার ছিল।

মটন কালিয়া

মটন কালিয়া, নামটা যথেষ্টই পরিচিত। রান্নার ক্ষেত্রেও খুব একটা ঝামেলা নেই। শুধু শাহী রেসিপি বলে উপকরণ একটু বেশি লাগে।

নাদান বিফ কারি

কেরালার জনপ্রিয় একটি রান্না হল মশলাদার বিফ কারি। আপনি যদি আমিষাশী হোন এবং কেরালা গিয়ে থাকেন তাহলে একবার না একবার চেখে দেখতেই হবে আপনাকে। কেরালায় রাস্তার ধারে স্ট্রিট ফুডের যে দোকানগুলি থাকে তাকে বলে ‘থাট্টুকাড়াস’। কেরালার এই প্রসিদ্ধ মশলাদার বিফ রান্নাটি কিন্তু মূলত এসেছেন এই থাট্টুকাড়াস থেকেই। কেরালায় এই খাবারটি নাদান বিফ কারি বলেই বেশি পরিচিত।

তন্দুরি চিকেন

আমিষাশী অথচ, চিকেন তন্দুরী খেতে ভালবাসেন না এমন লোক হয়তো হাতে গোনা। তন্দুরি চিকেন নামটা কিন্তু আসলে রান্নার পদ্ধতির জন্য হয়েছে। তন্দুরে রান্না করা হয় বলেই একে তন্দুরি চিকেন বলে। বাড়িতে তো তন্দুর থাকে না সবার সেক্ষেত্রে মাইক্রো ওভেনে বানানো যায় এই জিভে জল আনা খাবারটি।

কিন্তু যাদের বাড়িতে মাইক্রোওয়েভ নেই তারা কী বাড়িতে তন্দুরী চিকেনের মজা নিতে পারবেন না। আমরা থাকতে তা হয় নাকি। আমাদের কাছে এ সমস্যার সমাধান আছে।

 

কাশ্মীরি খট্টা মটন

ভারতে জনপ্রিয় মটন রন্ধন প্রণালীগুলির মধ্যে খাট্টা মটন বা পাঁঠার মাংসের টক অন্যতম। এই প্রণালীটি মূলত কাশ্মীরেই বেশি জনপ্রিয়। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে আসলে এই রান্নাটি টক স্বাদেরই হয়। আর এই স্বাদের জন্যই অন্য প্রদেশের মটন প্রণালীর সঙ্গে তফাৎ গড়া যায়।

কলমি কাবাব

ইফতার পার্টিতে আসর জমিয়ে দেবে কলমি কাবাব

কিমা টিক্কি

যাঁরা খুব স্বাস্থ্য সচেতন তাদের জন্য এই কিমা টিক্কি নয়। একে তো রেড মিট, তার উপর জবজবে তেল। তবে দীর্ঘদিন ধরে ডায়েটের মাঝে একদিন তো একটু ছুটি পাওয়াই যেতে পারে কিমা টিক্কির হাত ধরে বা বলা ভাল হাতে ধরে। কিমা টিক্কির ক্ষেত্রে টিক্কি গড়াটাই আসল জটিল বিষয়। টিক্কি সমানভাবে না গড়লে মাংস সিদ্ধও ঠিকভাবে হবে না।

কিমা সিঙাড়া

সিঙাড়া মানে সাধারণত আমরা নিরামিষ আলুর পুরের মাংসই বুঝি। কিন্তু মাংসের সিঙাড়া যে একেবারে নতুন কখনও শোনা যায় না তাও নয়। তবে হয়তো সব জায়গায় কিমা সিঙাড়া পাওয়া যায় না। দোকানে সিঙাড়া পাওয়া না গেলে কী খাওয়াও যাবে না? কে বলেছে সে কথা। নিজের হাত থাকতে অন্যের উপর ভরসা কেন?

গুস্তাবা

গুস্তাবা হল কাশ্মীরের জনপ্রিয় মিট বল রেসিপি। মটন কিমার সঙ্গে ভারতীয় মশলার মিশেলে তৈরি করা হয় এই মিট বল। তারপর এর কারি তৈরি করা হয়। তুলতুলে মিটবল অতি সহজে মুখের মধ্যে মিশে যায়। এক অদ্ভুত মনোরম স্বাদে প্রাণ ভরে যাবে আপনার। সাধারণত গুস্তাবা সাদা রংয়ের হয়। কারণ এর কারিটি দই আর খোয়া দিয়ে তৈরি করা হয়।

চিলি গার্লিক প্রন

কাবাব সাধারণ মাংসের বা মাছের হয়ে থাকে। চিংড়ির কাবাব সেই অর্থে ততটা পরিচিত বা জনপ্রিয় নয়। কিন্তু নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টায় বাধা তো নেই। কোনও খাবার যদি আপনার স্বাদ ইন্দ্রিয়কে তৃপ্ত করতে পারে এবং ক্ষুধা নিবারণ করতে পারে তাতেই তো খাবারের যথার্থতা। অতএব কাবাবে আজ মাংস ছেড়ে চিংড়ি হয়ে যাক।

হায়দ্রাবাদী লাল গোস্ত

নিজাম মানেই মটন প্রেমীদের শহর। হায়দ্রবাদের লাল গোস্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় এক খাবার। “রেড মিট” বা লাল মাংস দিয়েই এই রান্না তৈরি হয় বলে এর নামকরণ লাল গোস্ত। ভেড়া, খাঁসি, পাঁঠা, যে কোনও লাল মাংস দিয়েই এই রেসিপিটি জমবে বেশ। তবে মুরগীর মাংস দিয়ে বানাতে যাবেন না। তাহলে নামও পাল্টাতে হবে আর স্বাদ নিয়েও বোঝাপড়া করতে হবে তাহলে।

অমৃতসরী স্টাফড আলু কুলচা

কুলচা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। উত্তর ভারতে কুলচার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে। বাড়িতেও হয়তো অনেকেই কুলচা তৈরিও করেছেন নিরামিষ বা আমিষ ঘন কারির সঙ্গে খাওয়ার জন্য। কিন্তু সাধারণ কুলচা ছাড়াও বিভিন্ন রকমের বিভিন্ন রকম পুর বা স্টাফিংয়ের সাহায্যে আপনি রকমারি সুস্বাদু কুলচা তৈরি করতে পারেন।

গলৌটি কাবাব

গলৌটি কাবাবের ইতিহাস বেশ মজার। নবাব ওয়াজ আলি শাহের সময়কালে লখনউয়ে এই গলৌটি কাবাবের আবিস্কার হয়। আসলে নবাব সাহেবের তখন সব দাঁত পড়ে গিয়েছে। কিন্তু নবাবি রক্তে মাংস না হলে চলে? ফলে নবাবও খাঁসির মাংস-প্রেম ভুলতে পারছিলেন না। তাই নবাবকে পরিতৃপ্ত করতে নবাবি হেঁশেলে আবিস্কার করা হল গলৌটি কাবাবের।

শাহী মটন বিরিয়ানি

ইফতার মটন বিরিয়ানি ছাড়া অসম্পূর্ণ। তাই মেনুতে রাখতেই হবে শাহী মটন বিরিয়ানি

আন্ডা মিঠাই

ডিমের মিষ্টি আসলে পাকিস্তানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রেসিপি। মূলত রমজানের সময়ই এই মিষ্টি তৈরি হয়। ডিমের সঙ্গে খোয়া, দুধ, ঘি, আখরোট আরও কত কী যায়। স্বভাবতই বেশ গুরুপাক মিষ্টি হয় এটি। অন্যান্য সাধারণ মিষ্টির থেকে এই আন্ডা মিষ্টির স্বাদ অনেকটাই আলাদা। এই মিষ্টি বানাতে সেভাবে ঝঞ্ঝাটও নেই।

শাহি টুকরা

শাহি টুকরা। নামেই রয়েছে নবাবিয়ানা। নামে শাহি হলেও এই জিভে জল আনা মিষ্টি রেসিপিটি বানাতে এমনকিছু শাহিয়ানার প্রয়োজন পড়বে না। ঘি, দুধ, পাউরুটি দিয়ে অতি সহজে বানানো এই ডেজার্ট শুধু কিন্তু নামে নয়, স্বাদেও শাহি। রমজানে শাহি টুকরা তো অন্যতম, এই সময় শাহি টুকরার এক টুকরো মুখে না পড়লে যেন ঈদ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

Thanks for reading…..

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top