প্রতিদিনের খবর

অ্যাপল কোম্পানিতে চাকরী করলে আপনার বেতন যতো হতো!!

প্রযুক্তি এমন একটি জিনিস যেটা একবার কারও নেশায় পরিণত হলে এটা থেকে বের হওয়া মুশকিল। কোন অটোসাজেশন তাঁর জন্য কাজ করবে কিনা সন্দেহ। যাইহোক আমি আপনাদের প্রযুক্তি প্রিয় মনটাকে আরও একটু রাঙাতে চলে আসলাম আপনাদের মাঝে। আমার আজকের টপিকস অ্যাপেল। থিংক ডিফ্রেন্টের জনক স্টিভ জবস যেটা গড়েছেন, আর প্রযুক্তি জগতে আমার সব থেকে ভালো লাগা পুরুষ। যার একটি কথায় আমাকে জীবনকে বুঝতে শিখেয়েছে। তাইতো বার বার তাঁর ভেতরের তথ্য আপনাদের জন্য আমি নিয়ে আসি আপনাদের প্রযুক্তি মনকে আরও একটু রাঙাতে।

অ্যাপেল বিশ্বের প্রযুক্তি জগতে বিশাল অংশ জুড়ে আছে। প্রযুক্তির এমন কোন পণ্য নেই যেখানে অ্যাপেল তাঁর রাজকীয় ভাব রাখেনি। সেই অ্যাপেল কোম্পানিতে কাজ করলে আপনার বেতন কেমন হতো জানতে ইচ্ছা করে কিনা। অনেক ঘাটাঘাটি করেছি এটা জানতে। শেষবেশ প্রযুক্তিগুরু মেহেদী ভাই কাজটাকে আরও একটু সহজ করে দিলেন। প্রযুক্তির পিপাষা আমার মিটেছে, কিন্তু আপনাদের না মেটাতে পারলে মনে শান্তি পাচ্ছি না। আসুন তাহলে জানতে শুরু করি প্রযুক্তি জগতের গুরুর আসনে থাকা অ্যাপেলের কোম্পানির জব হোল্ডারদের বেতন সম্পর্কে।

 

অ্যাপেল কোম্পানিতে চাকরী করলে আপনার বেতন যতো হতোঃ

অ্যাপেলে যারা চাকরী করে তারা প্রযুক্তি জগতের একটু উচ্চ আসন নিয়ে আছেন বৈকি। কিন্তু আমি অধম বলে উত্তম হইবো না কেন। ঠিক এই কথায় আমাদের প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে বলতে চাই। আর জানাতে চাই আমরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে বলে টেকটিউনসের পাঠকরা অ্যাপেলের মতো কোম্পানিতে চাকরী করবো না কেন। আসুন চাকরী স্বপ্নে না ভেসে আগে একটু জেনে আসি কিসে কি করে এই প্রযুক্তি গুরুরা।  ?

২২) ম্যাক জিনিয়াস – Mac Genius

অ্যাপেল স্টোরে যারা গুরুত্বপূর্ণ আসন দখল করে আছেন তারাই ম্যাক জিনিয়াস। যদিও অ্যাপেল থেকে খুব ভালো কদর তারা পাই না, তবে অ্যাপেল স্টোরের শপিং অভিজ্ঞতা বদলাতে তারাই রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বেতনঃ ৪৪,০৭০ ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। (সকল টাকার হিসাব বাৎসরিক)

 

২১) লিড ম্যাক জিনিয়াস – Lead Mac Genius

সহজ ভাষায় ম্যাক জিনিয়াসদের নিয়ন্ত্রণ কর্তা অনেকটা। অর্থাৎ অ্যাপেল স্টোরেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে বেতন ম্যাক জিনিসদের ডাবল প্রায়।

বেতনঃ ৫৫,৬২৬ ডলার বা প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।

 

২০) সহকারী অ্যাপেল স্টোর ম্যানেজার – Assistant Apple Store manager

অ্যাপেল স্টোর চালাতে যারা বেশি ভূমিকা রাখেন তারাই সহকারী অ্যাপেল স্টোর ম্যানেজার।

বেতনঃ ৫৬০৪৬ ডলার বা প্রায় ৪৪ লাখ টাকা।

 

১৯) একাউন্ট এক্সিকিউটিভ – Account executive

বিজনেস টু বিজনেস (B2B) সম্পর্ক ম্যানেজ করা এবং তা মেইনটেইনের কাজ করেন একজন একাউন্ট এক্সিকিউটিভ। অ্যাপেলের হার্ডওয়্যার এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের ম্যানেজ করায় তাদের কাজ।

বেতনঃ ৮২,৪৭৯ ডলার বা ৬৫ লাখ টাকা।

 

১৮) স্টোর ম্যানেজার – Store Manager

অ্যাপেল স্টোরগুলোর নিয়ন্ত্রণ কর্তা তারা। যদিও তাদেরকে কাস্টোমাররা দেখেন না। তবে তারাই অ্যাপেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বেতনঃ ৮৫,২৫৭ ডলার বা ৫২ লাখ টাকা প্রায়।

 

১৭) বিজনেস এনালিস্ট – Business analyst

সমগ্র অ্যাপেল বিজনেস কীভাবে চলছে তাঁর দেখ-ভালের দায়িত্ব বিজনেস এনালিস্টদের।

বেতনঃ ৯২,১৬৯ ডলার বা ৭৩ লাখ টাকা।

 

১৬) ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট – Financial analyst

অ্যাপেল কোম্পানির ফিন্যান্স বিষয়ক বড় একটি টিম কাজ করে। যারা টোটাল অর্থ সম্বন্ধীয় বিষয় দেখা শুনা করে তারাই ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট।

বেতনঃ ৯৪,৭৯৯ ডলার বা ৭৫ লাখ টাকা।

 

১৫) সফটওয়্যারের গুনগত মান নির্ধারক ইঞ্জিনিয়ার – Software quality assurance engineer

সফটওয়্যার ভালোভাবে কাজ করবে কিনা বা কাস্টোমাররা এটাকে কীভাবে নিবে এসব নির্ধারণ করার দায়িত্ব এই ইঞ্জিনিয়ারদের।

বেতনঃ ৯৯,৬৫০ ডলার ৭৯ লাখ টাকা।

 

১৪) সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার – Systems engineer

অ্যাপেল হোলসেলারদের সাথে বোঝাপড়া ভালো রাখার জন্য এই পদের সৃষ্টি। ভালোভাবে পণ্য পাচ্ছে কিনা বা সব ঠিক আছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব এদের।

বেতনঃ ১০৪,২৩১ ডলার ৮৩ লাখ টাকা।

 

১৩) প্রোজেক্ট ম্যানেজার – Project manager

ছোট বড় সকল কোম্পানি প্রোজেক্ট সময় মতো সম্পন্ন হয়েছে কিনা বা সেসব জাস্টিফাই করা প্রোজেক্ট ম্যানেজার করে থাকেন। শৃঙ্খলভাবে কোম্পানির কাজে সাহায্য করা তাদের কাজ।

বেতনঃ ১০৭,৬৩১ ডলার ৮৬ লাখ টাকা।

 

১২) ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার – Firmware engineer

অ্যাপেলের সকল সফটওয়্যার তাঁর হার্ডওয়্যারের সাথে ভালোভাবে কাজ করছে কিনা দেখায় ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। খুব জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ এখানে সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার ২টাই এক সাথে মেইনটেইন করতে হয়।

বেতনঃ ১৩৩,১৫৫ ডলার বা ১ কোটি টাকা।

 

১১) টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার – Test engineer

অ্যাপেলের প্রোডাক্ট মান নতুন পণ্য সব অনুসরণ করছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য এই প্রসেস নেওয়া হয়। এই ইঞ্জিনিয়াররা অ্যাপেলের সকল পণ্য সব দিক থেকে অ্যাপেলের মান বজায় রাখছে এবং ভালোভাবে কাজ করছে কিনা দেখার প্রজেক্ট নিয়ন্ত্রণ করেন।

বেতন; ১১৩,৯১৬ ডলার বা ৯১ লাখ টাকা।

 

১০) সিনিয়র সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার – Senior systems engineer

অ্যাপেলে খুব সম্ভবত এটাই সব থেকে কম বেতনের সিনিয়র পদ। যদিও একজন রিটেইল ইমপ্লয়ি থেকে ২ গুন বেশি বেতন পান একজন  সিনিয়র সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার।

বেতনঃ ১১৭,২৩৭ ডলার বা ৯৩ লাখ টাকা।

 

৯) হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার – Hardware engineer

অ্যাপেলের টোটাল হার্ডওয়্যার দেখাশুনার দায়িত্ব তাঁর।

বেতনঃ ১১৮,৭৩৯ ডলার বা ৯৪ লাখ টাকা।

 

৮) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার – Software engineer

অ্যাপেলে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অ্যাপেল অ্যাপ এবং অপারেটিং সিস্টেমের ব্রেন হিসাবে কাজ করে। বড় দায়িত্ব তাদের পালন করতে হয়। গুগলের সফটওয়্যারে ইঞ্জিনিয়ার থেকেও তারা একটু বেশিই ইনকাম করেন।

বেতনঃ ১২৫,৩২২ ডলার বা ১ কোটি টাকা।

 

৭) ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর – Database administrator

কয়েক টন ডাটা অ্যাপেলকে বহন করতে হয়। অ্যাপেল স্টোর, অ্যাপ এবং অন্য সোর্স থেকে অনেক ডাটা তাদের বের করতে হয়। আর এই ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সকল ডাটাবেজ তথ্য যেন অফলাইনে না যায় তাঁর দেখাশুনা করেন।

বেতনঃ ১২২,৬৬৯ ডলার বা ৯৮ লাখ টাকা।

 

৬) প্রোডাক্ট ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার – Product design engineer

অ্যাপেলে ডিজাইন সেক্টর বেশ দামী। ডিজাইন ছাড়া অ্যাপেলের নিত্য নতুন চিন্তা ধারা কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকেও এই সেক্টরে জব হোল্ডারের বেতন মোটামুটি ভালোই।

বেতনঃ ১২৫৯৮৩ ডলার বা ১ কোটি টাকা।

 

৫) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার – Mechanical engineer

অ্যাপেলের প্রোডাক্টের টেকনিক্যাল প্রব্লেম সল্যুশনের জন্যই মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। প্রোডাক্ট বেশি গরম হলে বা অন্য কোন সমস্যা ডিল করার মূলত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। পরবর্তীতেও যেন টেকনিক্যাল সমস্যা না থাকে সেজন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্ব মোটামুটি খারাপ না।

বেতনঃ ১২৭,৪৬৪ ডলার বা ১ কোটি টাকা।

 

৪) প্রোডাক্ট ম্যানেজার – Product manager

অ্যাপেলের কোয়ালিটি মেনে সকল প্রডাক্ট বের হচ্ছে কিনা তা দেখা শুনার কাজ এই প্রোডাক্ট ম্যানেজারই করেন। প্রোডাক্ট ম্যানেজারকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, ডিজাইন এবং মার্কেটিং সব দিকই দেখতে হয়।

বেতনঃ ১৩১,১০৮ ডলার বা ১ কোটি টাকা।

 

৩) সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার – Senior software engineer

ম্যাপস এবং অ্যাপেল অপারেটিং সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করেন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। যদিও সিনিয়র হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকেও একটু কম বেতন পান তিনি।

বেতনঃ ১৪০,৮৩২ ডলার বা ১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

 

২) সিনিয়র হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার – Senior hardware engineer

অ্যাপেলের হার্ডওয়্যার নিয়ে সকল বিষয় সামলান সিনিয়র হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। অনেক অভিজ্ঞ হতে হতে এই টিউনে কেউ সুযোগ পান।

বেতনঃ ১৫০,১০৫ ডলার বা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

 

১) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার – Industrial designer

স্টিভ জবস সব সময়ই বলতেন অ্যাপেল তাঁর সুনাম ধরে রাখছে তাদের ক্রিয়েটিভ ডিজাইন এবং প্রযুক্তির নতুন আকার দেওয়ার জন্য। আসলে প্রযুক্তিতে মানুষকে টানার বড় দায়িত্ব পালন করেন এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার। নতুন পণ্য কীভাবে আসলে কাস্টোমার বেশি আকৃষ্ট হবে সেটা এই ট্যালেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনাররাই বের করেন।

বেতনঃ ১৭৪,১৪০ ডলার বা ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

সকল বেতন বাৎসরিক হিসাবে করা, টাকার হিসাবে ৮০ টাকায় ১ ডলার ধরা। টাকার হিসাবে একটু কম – বেশি হতে পারে। 

 

কি অ্যাপেল কোম্পানির সব জব পোস্টতো আপনাদের সামনে  উঠিয়ে ধরলাম এবং বাংলা ভাষায় এটাই প্রথম সম্পূর্ণ অ্যাপেল জব রিভিউ। আপনাদের ভালো লাগলেই আমি সার্থক।

আর ছোট্ট একটা IQ প্রশ্ন করে যাচ্ছি আপনারা যারা পোস্টটি পড়ছেন, আপনি অ্যাপেলে কাজ করার সুযোগ পেলে উপরের কোন জব পোস্ট আপনি চাইতেন নিজেকে সম্পূর্ণ মেলে ধরার জন্য?? কমেন্ট অপশনে আপনার বহিঃপ্রকাশ করুন!!

***এই ধরনের আরও টিপস-ট্রিকস, অফার এবং শিক্ষামূলক পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন***

ধন্যবাদ সবাইকে। দেখা হবে অন্য পোস্টে।  :roll:

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

You must be logged in to post a comment Login

নতুন পোস্ট’সমূহ

To Top